স্পেনে থাকা যেকোনো পাকিস্তানির সঙ্গে কথা বলুন, আধা ঘণ্টার মধ্যে একটি শব্দ অবশ্যই কানে আসবে: Cita (সিতা)। কেউ এক মাস ধরে পাচ্ছেন না, কেউ পেয়েছেন রাত দুটোয়, আর কেউ বিরক্ত হয়ে টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন।
সিতা মানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট। কাগজপত্রের আবেদন করতে হলে, আঙুলের ছাপ দিতে হলে, TIE কার্ড নিতে হলে — প্রতিটি কাজের আগে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে। আর আজকের দিনে পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন অংশ আবেদন নয়, এই অ্যাপয়েন্টমেন্টই।
প্রথমে বুঝে নিন ব্যবস্থাটা চলে কীভাবে। চলার নিয়ম বুঝে গেলে এই ধাপ সহজ হয়ে যায় না ঠিকই, কিন্তু অসহায়ত্ব কেটে যায় — আর প্রতারকদের জন্যও আর জায়গা থাকে না।
সিতা পাওয়া যায় কোথা থেকে
স্পেনের সরকারি দপ্তর অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কাজ করে না। ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট একটিই সরকারি ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যায়:
icp.administracionelectronica.gob.es
এখানে প্রথমে নিজের প্রদেশ বেছে নিতে হয়, তারপর কাজের ধরন (trámite)। যে তিনটি ধরন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, সেগুলো হলো:
- Presentación de solicitudes — আবেদন জমা দেওয়া (যেমন Arraigo)
- Toma de huellas (TIE) — আঙুলের ছাপ দেওয়া
- Recogida de tarjeta — তৈরি কার্ড সংগ্রহ করা
ভুল ধরন বেছে নেওয়া নিজেই একটি সাধারণ ভুল। মানুষ মাসের পর মাস পরে পাওয়া সিতা নিয়ে দপ্তরে পৌঁছান, আর সেখানে গিয়ে জানা যায় এটা সেই কাজের সিতাই ছিল না — আর সবকিছু আবার গোড়া থেকে শুরু হয়।
সেই বাক্য, যা সবাই পড়ে ফেলেছেন
“En este momento no hay citas disponibles” — এই মুহূর্তে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট খালি নেই।
কারণটা সোজা: স্লট সীমিত আর চাওয়ার মানুষ অনেক বেশি। এর ওপর আরেক বিপদ হলো, কিছু চক্র সফটওয়্যারের (বট) মাধ্যমে স্লট দখল করে নেয় এবং পরে সেগুলো বিক্রি করে। ফলে সাধারণ মানুষের ভাগে আরও কম স্লট পড়ে।
এটা জেনে রাখা জরুরি যে খালি স্ক্রিন আপনার কোনো ভুলের ফল নয়। মানুষ ঠিক এই জায়গায় এসে ভেবে বসেন, “আমার দ্বারাই কিছু ভুল হচ্ছে, চেনা কাউকে দিয়ে করিয়ে নিই” — আর এখান থেকেই টাকা দেওয়ার পালা শুরু হয়।

যে উপায়গুলো সত্যিই কাজে লাগে
- সময়ের খেয়াল রাখুন: নতুন স্লট প্রায়ই খুব ভোরে বা রাতের শুরুর দিকে খোলে। প্রতিদিন একই সময়ে নয় — দিনে কয়েকবার চেষ্টা করুন। সপ্তাহের প্রথম দিনগুলোতে সম্ভাবনা তুলনামূলক ভালো থাকে।
- লেগে থাকা, ভাগ্য নয়: এটা ধৈর্যের খেলা। প্রতিদিন চেষ্টা করুন; বেশিরভাগ মানুষ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্লট পেয়েই যান।
- নিজের তথ্য আগে থেকে হাতের কাছে রাখুন: পাসপোর্ট নম্বর বা NIE, আর নাম ঠিক যেমনটা কাগজপত্রে আছে। ফর্ম দ্রুত পূরণ করতে হয়, কারণ স্লট কয়েক মিনিটেই শেষ হয়ে যায়।
- রসিদ সংরক্ষণ করুন: নিশ্চিতকরণ ইমেইল রেখে দিন এবং সিতার justificante (প্রমাণপত্র) প্রিন্ট করে সঙ্গে নিয়ে যান।
- ডিজিটাল সার্টিফিকেট করিয়ে নিন: যাঁদের বৈধ অবস্থান আছে, তাঁরা certificado digital বা Cl@ve অবশ্যই করিয়ে নিন। এরপর অনেক কাজ সিতা ছাড়াই অনলাইনে হয়ে যায়, আর নবায়নের আবেদন ঘরে বসেই জমা পড়ে।
শেষ পয়েন্টটাই মানুষ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করেন, অথচ এটাই সবচেয়ে বেশি সময় বাঁচায়। একবারের পরিশ্রম, আর সামনের বছরগুলোর অর্ধেক মাথাব্যথা শেষ।
সিতা বিক্রেতারা — এখানে কথাটা পরিষ্কার শুনে নিন
সরকারি সিতা বিনামূল্যে। এর কোনো ফি নেই-ই। যে ব্যক্তি আপনার কাছে সিতার জন্য টাকা চাইছে, সে আপনাকে সেই জিনিসই বিক্রি করছে, যা আপনি নিজে, ওই একই ওয়েবসাইট থেকে, এক ইউরোও খরচ না করে নিতে পারেন।
আর ক্ষতিটা শুধু টাকার নয়। সিতা নেওয়ার জন্য আপনাকে নিজের পাসপোর্ট নম্বর আর ব্যক্তিগত তথ্য এক অচেনা মানুষের হাতে তুলে দিতে হয় — অর্থাৎ পরিচয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকিটাও আপনি সঙ্গে কিনছেন।
তবে একটা পার্থক্য পরিষ্কার রাখুন। কোনো বৈধ gestor (নিবন্ধিত কাগজপত্রের এজেন্ট) বা আইনজীবী যদি আপনার পুরো ফাইল সামলান — কাগজপত্র, অনুবাদ, আবেদন, তদারকি — তাহলে তাঁর ফি একটি প্রকৃত সেবার ফি। কিন্তু শুধু “সিতা পাইয়ে দেওয়ার” জন্য টাকা দেওয়া মানে সেই কারবারকেই পুষে রাখা, যে কারবার আপনার কাছ থেকেই স্লট ছিনিয়ে নিয়েছে।
TIE কার্ড — শেষ ধাপ
যখন আপনার বসবাসের আবেদন মঞ্জুর হয়ে যায় (resolución favorable), তখন আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ধাপ শুরু হয়: কার্ড বানানো। এটা তিন ধাপের কাজ।
- ফি (Tasa 790-012): ফর্মটি ওয়েবসাইট থেকে বের করে ব্যাংকে জমা দিন — কার্ডের ফি সাধারণত ২০ ইউরোর কম হয়।
- Huellas-এর সিতা: পুলিশ স্টেশনে আঙুলের ছাপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। সঙ্গে নিয়ে যান: পাসপোর্ট, মঞ্জুরির চিঠি, ফি-র রসিদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং empadronamiento।
- কার্ড সংগ্রহ: আঙুলের ছাপ দেওয়ার প্রায় এক থেকে দেড় মাস পর ওই দপ্তর থেকেই কার্ড পাওয়া যায় — আর সংগ্রহের জন্যও প্রায়ই আলাদা সিতা নিতে হয়।
এ থেকেই আন্দাজ করে নিন, একটি ফাইলে অন্তত দুই-তিনবার সিতার ধাপ আসে। তাই প্রথম সিতা পাওয়া মাত্রই পরের ধাপের প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ; সেই সময়ের অপেক্ষা করবেন না, যখন প্রয়োজন মাথার ওপর এসে পড়ে।

কিছু ব্যবহারিক কথা
প্রতিটি কাগজের ফটোকপি রাখুন, আর মোবাইলে তার ছবিও। রসিদ হারিয়ে যাওয়া এতটাই সাধারণ বিপদ যে সেটা আগে থেকেই ধরে নিয়ে চলা উচিত।
নিজের প্রদেশ ছাড়াও কাছের প্রদেশগুলোর দপ্তরও দেখে নিন। কিছু কাজের জন্য আপনি যেখানে থাকেন সেখানকার দপ্তরই বাধ্যতামূলক, কিন্তু সব কাজের জন্য নয় — আইনি পরামর্শে প্রায়ই একটা পথ বেরিয়ে আসে।
আর যেদিন সিতা, সেদিন দপ্তরে সময়ের আগে পৌঁছান। সিতার সময় পেরিয়ে গেলে নতুন সিতার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। যে জিনিস পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লেগেছে, তা ট্রাফিকের অজুহাতে হারানো সবচেয়ে কষ্টের ক্ষতি।
এই লেখা ব্যবস্থাটা বোঝানোর জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর ফি সময়ের সঙ্গে বদলায়, আর এক প্রদেশ থেকে আরেক প্রদেশে আলাদাও হয়। যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে হালনাগাদ তথ্য উপরে দেওয়া সরকারি ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিন।