প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে দক্ষিণ এশিয়ার শত শত শিক্ষার্থী এমন একটি আবেদন জমা দেন, যাতে এক টাকাও খরচ হয় না; আর যাঁদের ভাগ্য খোলে, তাঁরা পরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে থাকেন — ফি না দিয়ে, বরং প্রতি মাসে সরকারের কাছ থেকে ভাতা নিয়ে। ওই একই জানুয়ারিতে, একই শহরে, আরও কিছু ছেলে এক এজেন্টের অফিসে বসে সেই একই আবেদনের “প্রসেসিং চার্জ”-এর নামে দেড়-দুই লাখ টাকা দিচ্ছেন।
দুই দলই একই জিনিসের পেছনে ছুটছে। এর নাম Stipendium Hungaricum, আর এটি হাঙ্গেরি সরকারের বৃত্তি কর্মসূচি। পার্থক্য কেবল এটুকু যে প্রথম দলটি জানত, আবেদন বিনামূল্যে।
হাঙ্গেরি কেন?
হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, মধ্য ইউরোপে অবস্থিত, আর তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস কয়েকশ বছরের পুরোনো — বিশেষত চিকিৎসা, প্রকৌশল ও কৃষিতে। পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় এখানে জীবনযাত্রা সস্তা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, হাঙ্গেরি বিশ্বজুড়ে প্রায় সত্তরের বেশি দেশের সঙ্গে শিক্ষা চুক্তি করে রেখেছে, আর এই তালিকায় আপনার দেশ আছে কি না, সেটাই আপনার প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত — কারণ কর্মসূচিটি প্রতিটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে না এবং অংশীদার দেশের তালিকা বছরে বছরে বদলায় (উদাহরণ হিসেবে, পাকিস্তান বহু বছর ধরে এই তালিকায় থেকেছে)। চুক্তিভুক্ত প্রতিটি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক আসন বরাদ্দ হয়, আর চলতি বছরের তালিকা কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটেই প্রকাশিত হয়।
কথাটি আবার বলার মতো, কারণ আমাদের এখানে ইউরোপ নিয়ে সাধারণ ধারণা হলো সব দরজা বন্ধ, আর সেগুলো কেবল টাকা বা এজেন্ট দিয়েই খোলে। এটি এমন একটি দরজা, যা খোলা, যা সরকারি, আর যার চাবি কেবল আপনার নম্বরে আর আপনার আবেদনে।
Stipendium Hungaricum আসলে কী দেয়
এটি শুধু ফি মওকুফ নয়। অনুমোদিত শিক্ষার্থী সাধারণত চারটি জিনিস পান:
- পুরো টিউশন ফি — অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়কে এক ফোরিন্টও দিতে হয় না।
- মাসিক ভাতা — ব্যাচেলর ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে প্রায় 43,700 হাঙ্গেরিয়ান ফোরিন্ট (প্রায় 115 ইউরো), আর পিএইচডির জন্য এই অঙ্ক কয়েক গুণ বেশি।
- থাকার ব্যবস্থা — হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে জায়গা, নয়তো তার বদলে মাসিক আবাসন ভাতা।
- স্বাস্থ্যবিমা — হাঙ্গেরির আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিমা বৃত্তির মধ্যেই আছে।
এবার সৎ কথা। ভাতার এই অঙ্ক বড় নয়। 43,700 ফোরিন্টে আপনি বুদাপেস্টে রাজার জীবন কাটাতে পারবেন না — এটি খাওয়াদাওয়া ও মৌলিক খরচের জন্য, আর হস্টেলে জায়গা পেয়ে গেলে চলে যায়। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করেন বা বাড়ি থেকে কিছু সাহায্য নেন। যে এজেন্ট আপনাকে বলবেন যে এই বৃত্তি দিয়ে আপনি বাড়িতে টাকা পাঠাবেন, তিনি মিথ্যা বলছেন। এখানে আসল মূল্য টিউশনের মওকুফ, যা লাখ লাখ টাকার সাশ্রয়।

আবেদন দুই জায়গায় যায় — আর এখানেই মানুষ মার খায়
এই কর্মসূচি দুই সরকারের মধ্যে চুক্তি, তাই আবেদনের প্রক্রিয়াও দুই ভাগে। এটি বুঝে নিলে অর্ধেক যুদ্ধ জেতা হয়ে গেল।
প্রথম ভাগ — নিজের দেশের দিক। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশে একটি প্রতিষ্ঠান থাকে, যাকে বলা হয় “sending partner”। এটি সাধারণত সেই দেশের উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তি-বিষয়ক সরকারি সংস্থা হয়ে থাকে — বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার তদারকি করে University Grants Commission (UGC), তবে কোন প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের sending partner হিসেবে ঘোষিত, তা কর্মসূচির সরকারি ঘোষণা থেকেই নিশ্চিত করে নিন। আপনি সেই sending partner-এর পোর্টালে আপনার আবেদন জমা দেন, আর তারা নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী প্রার্থীদের হাঙ্গেরির দিকে মনোনয়ন (nominate) দেয়।
দ্বিতীয় ভাগ — হাঙ্গেরির দিক। এরই মধ্যে আপনাকে Stipendium Hungaricum-এর নিজস্ব অনলাইন পোর্টালেও পূর্ণ আবেদন করতে হয়, যেখানে আপনি নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বেছে নেন। এরপর হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয় আপনার কাগজপত্র দেখে, প্রায়ই অনলাইন সাক্ষাৎকার বা ভর্তি পরীক্ষা নেয়, আর শেষে সিদ্ধান্ত আসে।
মনে রাখবেন: দুটি আবেদনই বাধ্যতামূলক। একটি বাদ পড়লে অন্যটির কোনো লাভ নেই। প্রতি বছর বহু শিক্ষার্থী কেবল এই কারণেই বাদ পড়ে যান যে তাঁরা একটি পোর্টালে ফর্ম পূরণ করে অন্যটিকে “পরে দেখা যাবে” বলে ছেড়ে দিয়েছেন।
তারিখ কড়া
এটি বার্ষিক চক্র এবং এতে কোনো ছাড় নেই। আবেদনের জানালা সাধারণত নভেম্বরের আশপাশে খোলে এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি বন্ধ হয়ে যায় — সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের জন্য শেষ তারিখ ছিল 15 জানুয়ারি, আর তা-ও নির্ধারিত সময়ে, সেই দিনই সন্ধ্যায়। এরপর পোর্টাল বন্ধ, কথা শেষ, পরের বছর। আপনার নিজের দেশের জন্য নির্দিষ্ট তারিখটি সেই বছরের সরকারি ঘোষণা থেকে দেখে নিন — দেশভেদে তা আলাদা হতে পারে।
শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। অর্থাৎ জানুয়ারির আবেদনের ফল আসে জুন-জুলাইয়ে আর আপনি সেপ্টেম্বরে ক্লাসে বসেন। এর মানে হলো, আপনাকে অন্তত এক বছর আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে: ভাষার সনদ, সুপারিশপত্র, মোটিভেশন লেটার, ডিগ্রির সত্যায়ন। এসব ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জোগাড় হয় না।
প্রতি বছর শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তারিখ কিছুটা বদলায়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে stipendiumhungaricum.hu ও studyinhungary.hu-তে গিয়ে সেই বছরের ঘোষণাটি নিজে পড়ুন, আর আপনার দেশের sending partner-এর ওয়েবসাইটে জারি করা বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
প্রতিযোগিতা কঠিন — এই কথাটি প্রথম দিনেই বুঝে নিন
আসন সীমিত আর আবেদন হাজারে হাজার। ভালো নম্বর, সংশ্লিষ্ট বিষয়, পরিচ্ছন্ন মোটিভেশন লেটার আর ইংরেজির সনদ — এসব মিলেও কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। কেউ যেন আপনাকে না বলে যে “আপনার হয়েই যাবে”। কারও সেই ক্ষমতাই নেই।
যে জিনিসটি সত্যিই পার্থক্য গড়ে, তা হলো আপনার বাছাই বুদ্ধি খাটিয়ে করা। বুদাপেস্টের সবচেয়ে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামে প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। Debrecen, Szeged, Pécs বা Miskolc-এর মতো শহরের শক্তিশালী প্রোগ্রামগুলোতে সম্ভাবনা ভালো হতে পারে, আর ডিগ্রি ঠিক ততটাই ইউরোপীয়।
নিজের খরচে পড়া — দ্বিতীয়, কম পরিচিত পথ
বৃত্তি না পেলে কথা শেষ হয়ে যায় না। হাঙ্গেরিতে নিজের খরচে পড়াশোনা পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় বেশ সস্তা। বেশির ভাগ ব্যাচেলর ও মাস্টার্স প্রোগ্রামের ফি বছরে প্রায় 3,000 থেকে 7,000 ইউরোর মধ্যে হয়। চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা এর চেয়ে অনেক বেশি দামি — সেখানে ফি কয়েক গুণ বেশি হতে পারে, তাই মেডিকেল নিয়ে যাঁরা ভাবছেন, তাঁরা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফি শিট দেখে নিন।
এই সব অঙ্ককে আনুমানিক ধরুন। ফি প্রতিটি প্রোগ্রামের আলাদা এবং প্রতি বছর বদলায়। যেকোনো হিসাব করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করুন।
মাসিক খরচের বাস্তব ধারণা
এটি একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর আনুমানিক মাসিক খরচ। বুদাপেস্ট দামি, ছোট শহরগুলো স্পষ্টতই সস্তা।
| খাত | বুদাপেস্ট (আনুমানিক, ইউরো) | ছোট শহর (আনুমানিক, ইউরো) |
|---|---|---|
| থাকা (শেয়ার করা ঘর বা হস্টেল) | 200 – 400 | 120 – 250 |
| খাওয়াদাওয়া | 150 – 220 | 120 – 180 |
| যাতায়াত (স্টুডেন্ট পাস) | 10 – 15 | 10 – 15 |
| বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ফোন | 50 – 90 | 40 – 70 |
| স্বাস্থ্যবিমা (বৃত্তিতে অন্তর্ভুক্ত না হলে) | 25 – 60 | 25 – 60 |
| মোট | 450 – 780 | 320 – 570 |
ভিসা ও বসবাসের অনুমতির জন্য হাঙ্গেরির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আপনাকে প্রমাণ করতে বলে যে অবস্থানকালে চলার মতো টাকা আপনার আছে — ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বৃত্তির চিঠি, বা স্পনসরের হলফনামা। প্রয়োজনীয় অঙ্ক নির্ধারিত এবং তা বদলাতে থাকে, তাই আবেদনের আগে দূতাবাস বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ থেকে সর্বশেষ সীমা জেনে নিন।
ভাষা: পড়াশোনা ইংরেজিতে, জীবন হাঙ্গেরিয়ানে
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শত শত প্রোগ্রাম পুরোপুরি ইংরেজিতে পড়ানো হয়, আর Stipendium Hungaricum-এর আওতায় আসা বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এগুলোতেই ভর্তি হন। ভর্তির জন্য সাধারণত IELTS বা সমমানের সনদ চাওয়া হয়।
কিন্তু ক্লাসরুমের বাইরে বেরোলে হাঙ্গেরিয়ান ভাষার দুনিয়া। সরকারি দপ্তর, ডাক্তারের চেম্বার, বাড়ির চুক্তি, আর সবচেয়ে বড় কথা চাকরি — এই সবেতেই হাঙ্গেরিয়ান কাজে লাগে। হাঙ্গেরিয়ান সহজ ভাষা নয়, তবে এটাও সত্য যে যে শিক্ষার্থী দুই বছরে কাজ চালানোর মতো হাঙ্গেরিয়ান শিখে নেন, পড়াশোনার পরে দেশে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা তাঁর জন্য অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাথমিক হাঙ্গেরিয়ান কোর্স বিনামূল্যে বা নামমাত্র ফিতে করায়। সেটি ছাড়বেন না।
পড়াশোনার সময় কাজ, এবং তার পরে
হাঙ্গেরিতে শিক্ষার্থীর বসবাসের অনুমতিতে সীমিত কাজের অনুমতি থাকে — শিক্ষাবর্ষ চলাকালে সপ্তাহে সীমিত ঘণ্টা আর ছুটিতে বেশি। এই সীমা সময়ে সময়ে বদলেছে, তাই আপনার নিজের অনুমতিতে লেখা শর্তটিকেই নির্ভরযোগ্য মানুন, কোনো সিনিয়রের শোনা কথা নয়।
পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরে ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার জন্য একটি সীমিত মেয়াদের অনুমতি পেতে পারেন, আর চাকরি পেয়ে গেলে ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়া সম্ভব।
তবে এখানে একটি কথা একেবারে স্পষ্ট করে লেখা দরকার। হাঙ্গেরি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ইমিগ্রেশন আইন যথেষ্ট কড়া করেছে। 2024 সালে কার্যকর হওয়া নতুন আইন অনুমতির ধরনগুলো নতুন করে সাজিয়েছে, কয়েকটি শ্রেণিতে স্থায়ী বসবাস ও পরিবারকে আনার অধিকার সীমিত করেছে, আর সামগ্রিক মনোভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। এর মানে হলো, হাঙ্গেরিতে পড়াশোনাকে “ইউরোপে সেটল হওয়ার পাকা পথ” ভাবা ভুল। এটি একটি চমৎকার শিক্ষার সুযোগ এবং একটি ইউরোপীয় ডিগ্রি — তার পরে যা কিছু, তা নির্ভর করে আপনার ডিগ্রি, আপনার ক্ষেত্র এবং তখনকার আইনের ওপর। যে এজেন্ট বৃত্তিকে “PR-এর পথ” বানিয়ে বিক্রি করেন, তিনি আপনাকে এমন একটি জিনিস বিক্রি করছেন যা তাঁর কাছে নেই-ই।
কিছু পরিচিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
এগুলো হাঙ্গেরির পরিচিত সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি প্রোগ্রাম আছে। প্রোগ্রাম, ফি ও ভর্তির শর্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেখুন।
- Eötvös Loránd University (ELTE) — বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরির সবচেয়ে পুরোনো ও বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি
- Budapest University of Technology and Economics (BME) — প্রকৌশল ও প্রযুক্তির কেন্দ্র
- University of Debrecen — আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বড় সংখ্যা, বিশেষত চিকিৎসা ও কৃষিতে
- University of Szeged — গবেষণায় শক্তিশালী, শহর সস্তা ও শান্ত
- University of Pécs — হাঙ্গেরির প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, বিস্তৃত ইংরেজি প্রোগ্রাম
- Semmelweis University — চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সুপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়
- Corvinus University of Budapest — অর্থনীতি, ব্যবসা ও সমাজবিজ্ঞান
- Óbuda University — বুদাপেস্ট, ফলিত প্রকৌশল ও প্রযুক্তি
- University of Miskolc — প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞান
- Széchenyi István University (Győr) — অটোমোটিভ ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রতারণা: এই চারটি কথা মনে রাখুন
প্রথম — আবেদন বিনামূল্যে। Stipendium Hungaricum-এ আবেদন জমা দেওয়ার কোনো ফি নেই। আপনার দেশের sending partner-এর পোর্টালেও নয়, হাঙ্গেরির পোর্টালেও নয়। কেউ যদি “অ্যাপ্লিকেশন চার্জ” বা “প্রসেসিং ফি”-র নামে আপনার কাছে লাখ লাখ চান, তবে তিনি আপনার কাছ থেকে এমন একটি কাজের টাকা নিচ্ছেন যা আপনি নিজের মোবাইল দিয়েই করতে পারেন। হ্যাঁ, অনুবাদ, সত্যায়ন, IELTS ও কুরিয়ারে আসল খরচ হয় — কিন্তু তা হাজারে, লাখে নয়।
দ্বিতীয় — কেউ “গ্যারান্টি” বিক্রি করতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেয় আপনার দেশের sending partner আর হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়। যে ব্যক্তি নিশ্চিত করে বলেন যে তাঁর “কন্টাক্ট” আছে, তিনি হয় মিথ্যা বলছেন, নয়তো আপনাকে এমন প্রক্রিয়ায় জড়াতে যাচ্ছেন যার পরিণতি বাতিল আবেদন আর খারাপ রেকর্ড।
তৃতীয় — ভুয়া ভর্তির চিঠি। কিছু মানুষ “অ্যাডমিশন লেটার” বানিয়ে বিক্রি করেন। দূতাবাস প্রতিটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করায়। ধরা পড়লে শুধু ভিসা যায় না, আপনার নামের সঙ্গে এমন একটি রেকর্ড লেগে যায় যা সামনে প্রতিটি ইউরোপীয় দেশে আপনার পিছু নেয়।
চতুর্থ — পুরোনো তথ্য। বৃত্তির অঙ্ক, শেষ তারিখ, আর ইমিগ্রেশনের আইন — তিনটিই গত দুই-তিন বছরে বদলেছে। ইউটিউবে 2021 সালের ভিডিও দেখে পরিকল্পনা করবেন না। প্রতিটি সংখ্যা সেই বছরের সরকারি পাতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
বাস্তবে আপনার যা করা উচিত
- আজই stipendiumhungaricum.hu ও studyinhungary.hu-তে গিয়ে দেখুন এই বছর কোন কোন বিষয়ে আসন আছে।
- এ বছর আপনার দেশ কর্মসূচির অংশীদার তালিকায় আছে কি না দেখে নিন, আর sending partner-এর ওয়েবসাইটে জারি করা বিজ্ঞপ্তি ও যোগ্যতার শর্ত পড়ুন।
- ইংরেজির পরীক্ষা (IELTS বা সমমান) সময়ের আগেই দিয়ে ফেলুন — ফল আসতে সপ্তাহ লাগে।
- ডিগ্রি ও সনদের সত্যায়নের কাজ নভেম্বরের আগেই শেষ করুন।
- মোটিভেশন লেটার নিজে লিখুন। নকল করা চিঠি ধরা পড়ে, আর দুর্বল চিঠি ভালো নম্বরকেও ডুবিয়ে দেয়।
- তিন-চারটি প্রোগ্রাম ভেবেচিন্তে বাছুন — শুধু বুদাপেস্টের সবচেয়ে বিখ্যাত নাম নয়।
এই লেখাটি আপনাকে পথ দেখানোর জন্য, কোনো ফলের নিশ্চয়তা নয়। Stipendium Hungaricum-এর শর্ত, বৃত্তির অঙ্ক, ফি ও হাঙ্গেরির ইমিগ্রেশন আইন প্রতি বছর পুনর্বিবেচনার মধ্য দিয়ে যায় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকবার বদলেছে। এখানে দেওয়া সব সংখ্যা আনুমানিক। আবেদন করার আগে প্রতিটি সংখ্যা ও প্রতিটি তারিখ সরকারি পোর্টাল এবং আপনার দেশের sending partner-এর নিজস্ব ঘোষণা থেকে যাচাই করে নিন — আর সেই কাজের টাকা কাউকেই দেবেন না, যা আপনি নিজেই বিনামূল্যে করতে পারেন।